বন্ধুত্বের এই অনুপম ভূবনে স্বাগতম
  • +880 1670-436377, +880 1819-380403, +880 1717-157591
  • info@89revived.com
  • Keya Mansion, 4th Floor,
    CDA Commercial Area, 6, Momin Road, Chattogram-4000
89 Revived – স্বপ্নময় পথচলার শুরু

৮৯ রিভাইভড।

বিশাল এক স্বপ্ন নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে, অনেকটা হঠাৎ করেই। আমাদের কয়েকজন বন্ধুর প্রাণান্ত প্রচেষ্টায় মাত্র ১৫ দিনের প্রস্তুতিতে ১৫ এপ্রিল প্রথম অনুষ্ঠান চট্টগ্রামে এবং ১৬ এপ্রিল ঢাকায় দ্বিতীয় অনুষ্ঠান বেশ জাঁকজমকভাবে আয়োজিত হয়েছিল। মূলত: চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলের ৮৯ ব্যাচের বন্ধুদের নিয়েই আমাদের এই পথচলা শুরু।

আমরা যারা ৮৯ সালে এসএসসি দিয়েছিলাম তারা এই একটা বিষয়ে গর্ব করতে পারি, সারা দেশে সব এসএসসি ব্যাচের মধ্যে আমরাই সর্বপ্রথম ব্যাচভিত্তিক প্লাটফর্মের মাধ্যমে রিয়েল লাইফে অনুষ্ঠান আয়োজনের সূচনা করেছিলাম।

২০১৬ তে চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় পরপর দুইদিন দুইটা অনুষ্ঠানে যারা অংশগ্রহণ করেছিল তাদের মাধ্যমে আরো অগণিত বন্ধুদের মাঝে আমাদের এই প্লাটফর্মের গল্প ছড়িয়ে পড়েছিল। এরপর থেকে ঈদে, পূজা-পার্বণে বন্ধুদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া, রমজানে ইফতার, বন্ধুদের জন্মদিন পালন থেকে শুরু করে ম্যারেজ ডে পর্যন্ত পালন করার ট্রাডিশন চালু হয়ে গেলো। আমাদের একেকটা দিন যেনো একেকটা ছোট গল্পের মতো শুরু হতো যা আর শেষ হতো না। ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে বন্ডিং দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হতে হতে আমরা যেনো বৃহৎ একটা পরিবারের সদস্য হয়ে গেছি। ২০১৭ তে আমরা আবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রস্তুতি নিলাম নববর্ষ আয়োজনের। এবারের ভেন্যু তিন তারকা হোটেল পেনিনসুলা। নববর্ষের লাল সাদা রঙে আমরা সেদিন উদ্দাম আনন্দে মেতে উঠেছিলাম নাচে আর গানে। সে বছরের ডিসেম্বর এর শেষে আমরা প্রথমবারের মতো ফ্যামিলি ডে আউট এর এক বিশাল প্রোগ্রাম এর আয়োজন করেছিলাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরা আনোয়ারায় কেইপিজেড এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্পট “ব্যাম্বো হাউজ” এ। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমাদের প্রথম প্রকাশনা “এসো বাঁচি বন্ধুত্বে” প্রকাশিত হয়েছিল যাতে ১০২টা স্কুলের ৫১২ জন বন্ধুর ছবিসহ পরিচিতি সন্নিবেশিত হয়েছিল।

২০১৮ তে তৃতীয়বারের মতো নববর্ষ উদযাপন করেছিলাম রীমা কমিউনিটি সেন্টারে। এই আয়োজনে আমাদের বন্ধুদের ফ্যামিলি মেম্বাররাও অংশ নিয়েছিল। আমাদের প্রতিটা অনুষ্ঠানে যারাই অংশ নিয়েছে প্রত্যেকের কাছ থেকেই আমাদের অনুষ্ঠানের ভালো ফিডব্যাক পেয়েছি। আমরা যারা সংগঠক ছিলাম তারাও দিন দিন ঋদ্ধ হচ্ছিলাম অভিজ্ঞতায়, আমরা সবসময়েই চেষ্টা করেছি আগের আয়োজন থেকে আরো ভালো কিছু করার।

২০১৯ এ এসে আমরা চেয়েছিলাম ৮৯ রিভাইভড এর একটা সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করাতে। কাজির দেউড়ির এপোলো শপিং সেন্টার এর তৃতীয় তলায় ক্যাফে ৩১ এ আমাদের বন্ধুদের নিয়ে একটা সাধারণ সভার আয়োজন করেছিলাম। সেখানে সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে সর্ব সম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো একটা গঠনতন্ত্র প্রণয়নের। এজন্য একটা গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটি ও গঠন করা হয়েছিল ৭ জন বন্ধুর সমন্বয়ে। অনেকগুলো মিটিং শেষে একটা গঠনতন্ত্র আমরা তৈরি করতে পেরেছিলাম। সেই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী একটা সাধারণ সভায় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটা কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয় সেদিনের সভায় উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতে। সেই কমিটি গঠন আমাদের গুটি কয়েক বন্ধুর মনপূতঃ না হওয়ায় কিছুটা মতপার্থক্য হয়। এই টানা পোড়েনে ২০১৯ এ ৮৯ রিভাইভড এর কোন অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায়নি।

২০২০ এ মরণঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও যখন ছড়িয়ে পড়েছিলো, সবার মতো মৃত্যু ভয়ে আমরাও আতংকিত হয়ে পড়েছিলাম নিজেদের পরিবারের এবং বন্ধুদের নিয়ে। সেই সময়ে আমরা চেষ্টা করেছিলাম প্রথমেই আমাদের ডাক্তার বন্ধুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পিপিই সংগ্রহ করার জন্য। আমাদের ঢাকার এক বন্ধুর সহায়তায় সেই সময়ে ২০০ পিস পিপিই আমরা যখন হাতে পাই তখন চট্টগ্রাম বি এম এ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে কোন পিপিই এসে পৌঁছেনি। এরপর আমরা চট্টগ্রাম থেকে আরো উন্নত মানের ১০০ পিস পিপিই তৈরি করে মাস্ক, স্যানিটাইজারসহ সরবরাহ করি। সে সময়ে সবাই যখন নিজ নিজ নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত সেই সময়ে আমরা নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে বেড়িয়েছি মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে।

২০২০ এর রমজান মাসে লকডাউন এর ফাঁদে পড়ে আমরা সবাই দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। আমাদের অনেক বন্ধু তখন কর্মহীন হয়ে পড়ে চরম হতাশার মাঝে পরিবার নিয়ে দিনাতিপাত করছিলো। সেই দুঃসময়ে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছি, আমাদের অনেক সামর্থবান মানবিক বন্ধু আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলো। তাদের সহায়তায় অনেক বিপদগ্রস্ত বন্ধুদের মুখে হাসি ফুটছিল।

২০২১ এ আবারও লকডাউন জারি হলো তাও আবার রমজান মাসেই। তখন চরম উৎকণ্ঠায় আর ভয়ে মানুষ হতবিহ্বল। হাসপাতালে রোগীদের আত্মীয় স্বজনেরা পড়েছিল চরম দুশ্চিন্তায়, খাবারের হোটেলগুলো ছিল সব বন্ধ। সেই সময়ে আমরা আমাদের ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়ে চেষ্টা করেছি তাদের পাশে দাঁড়াতে। প্রতিদিন আমরা ডিম খিচুড়ি বিতরণ করেছি ইফতার করার জন্য। শুরু করেছিলাম আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল থেকে। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে নিজেরাই স্বেচ্ছাসেবী হয়ে সেই খাবার বিলিয়েছিলাম। আর এই ব্যায়সাধ্য কাজে আমাদের ৮৯ রিভাইভড এর দেশে বিদেশের বন্ধুরাই আর্থিক সহায়তা দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সেই রমজানে ও এই ফান্ডের উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে আমাদের বেশ কিছু অসচ্ছল বন্ধুদেরকে সাপোর্ট দিয়েছি।

২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর আমাদের দ্বিতীয় ফ্যামিলি ডে-আউটের এর বিশাল ইভেন্ট আয়োজন করি। ভেন্যু ছিল আগেরবারের মতো কেইপিজেড-ব্যাম্বু হাউস। এবারের বিশেষত্ব ছিল চট্টগ্রামের বন্ধুদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বন্ধুদের আগমন। সব মিলিয়ে দারুণ আনন্দ মুখর জম্পেশ একটি অনুষ্ঠান হয়েছিল মনে রাখার মতো।

২০২২ সালে আমরা বন্ধুদের নিয়ে বেশ কয়েকটা অনুষ্ঠান করেছি। এর মাঝে রমজান মাসে আমরা বন্ধুদের সহায়তায় চট্টগ্রামের বেশ কিছু স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির দরিদ্র কর্মচারীদের মাঝে ঈদসহ ১০ দিন চলার মতো খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন প্রান্তের এটিএম বুথের সিকিউরিটি গার্ডদের মাঝেও ১০ দিনের খাবার সামগ্রী পুরো শহর ঘুরে ঘুরে বিতরণ করেছি।

২০২৩ এ আমরা ছোট ছোট অনেকগুলো ইভেন্ট করেছিলাম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল আনোয়ারা পারকি সৈকতে বন্ধুদের নিয়ে চড়ুইভাতি। এই অনুষ্ঠানে আমাদের বাচ্চারা পুরো একটা সেশন নিজেরা গান করেছে। গীটার, কি বোর্ড, কাহন বাজিয়ে আমাদের শুধু আনন্দে অবগাহন করায়নি একটা দারুন ভবিষ্যতের ছবি আমাদের দু’চোখে এঁকে দিয়েছে।

২০২৩ এর রমজান মাসে ও আগের বছরের ধারাবাহিকতায় আমরা অসচ্ছল ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের মাঝে মোটামুটি শান্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারার জন্য শুকনো খাবার সামগ্রী পুরো শহরজুড়ে ঘুরে ঘুরে বিতরণ করেছি।

২০২০ সালে জানুয়ারিতে প্রথম ফ্রেন্ডশিপ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের বন্ধুরা যারা এ খেলার পারদর্শী তারা অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করেছিল। এ প্রোগ্রামে আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেছিলাম। এরপর থেকে প্রতিবছর আমাদের এ আয়োজন সারাদেশে সাড়া জাগিয়ে চলেছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে আয়োজিত পঞ্চম ফ্রেন্ডশিপ ব্যাডিমিন্টন টুর্নামেন্ট উৎসর্গ করা হয়েছে চট্টগ্রামের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রাক্তন লায়নস গভর্নর ডা. ললিত কুমার দত্ত এর মহান স্মৃতির উদ্দেশ্যে। তিনি ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন ছিলেন।

শুরু থেকেই আমাদের মূল শ্লোগান ছিল ‘এসো বাঁচি বন্ধুত্বে” আমরা এই শ্লোগানকে আমৃত্যু ধারণ করে রাখতে চাই। আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনায় আছে শেষ বয়সেও যেনো আমরা একসাথে হাসি আর আনন্দে অতিবাহিত করতে পারি সে জন্য একটা বন্ধু আশ্রম বা বন্ধু নিবাস তৈরি করার। আশা করি আমাদের পরিকল্পনা মতো আমরা এগিয়ে যাবো আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে।

বন্ধুদের সাথে মান অভিমান হয়তো হয় তাই বলে শত্রুতা কখনো নয়।

এসো বন্ধু, এসো বাঁচি বন্ধুত্বে। জীবনের শেষ দিন ও কাটুক বন্ধুদের সান্নিধ্যে