এসো বাঁচি বন্ধুত্বে….
আমাদের সম্পর্কগুলো ছোঁয়া যায়না বা স্পর্শ করা যায়না। আমাদের ভালোলাগাগুলো কখনো হারায় না। থমকে দাঁড়ায় না কোনো পথের বাঁকে। তবে ভালোলাগাগুলোর অবিরাম ছুটে চলাও আমাদের ব্যস্ততার ফাঁকে একটু জিরিয়ে নেয়। অনুভূতির স্পন্দনগুলো হৃদয় নিংড়ানো প্রস্তরে এঁকে যায় স্বস্তির ছবি। অনন্ত জীবন রেখায় দূরন্ত ছুটে চলার অবসরে খুঁজে পাই ভালোলাগার অতি সঙ্গত অথচ চিরন্তন বাস্তবতা। কারণ আমাদের এই ভালোলাগার নাম-ই বন্ধুত্ব।
প্রথম মাইলফলক উৎরানোর কাল ‘উননব্বই’। মুক্তির আশে ভেসে চলা গণজোয়ারে পালতালা অন্তিম তরণী। কালজয়ী অধ্যায়ের প্রতিটি পংক্তিতে লেখা ছিল আমাদের আগমনী স্বপ্নের কথা। স্বপ্ন পূরণে যে যার মতো হয়েছি অশ্বারোহী। সময়ের আবর্তনে পুনরুজ্জীবন অতি জরুরি। আমরা পুনরুজ্জীবিত। এই অব্দি অষ্টপ্রহরের সহযাত্রী। আমাদের চৌহদ্দিতে আমরা নই সীমাবদ্ধ। যেখানে-যেভাবে-যেক্ষণে প্রয়োজন দাঁড়ানোর, সেই প্রয়োজনে আপামরের পাশে থাকার ব্রতে আমরা একাট্টা- এই একবিংশ শতাব্দীর সিকিভাগে। পুনরুজ্জীবিত উননব্বই হোক মানুষের কল্যাণে স্বপ্নিল যাত্রার একটি অনুসরনীয় পথিকৃৎ।
এসো বাঁচি বন্ধুত্বে। বন্ধুত্ব বাঁচুক বন্ধনে। বন্ধনের সীমারেখা ফুসফুসে জমানো নির্মল বাতাসে করুক অবগাহন। ছুটে যাক আদিগন্ত। বন্ধন অনুরণিত হোক আলিঙ্গনে অথবা ইথারের ভাষায়। সেলক্ষ্যে বন্ধনকে অনিরুদ্ধ করার অভিপ্রায়ে আমরা পুনরুজ্জীবিত হয়েছিলাম ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল শুক্রবারে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলের ৮৯ সালের এসএসসি ব্যাচ এর বন্ধুরা। গড়ে তুলেছিলাম 89 Revived আমাদের এই সংগঠন, যা পরবর্তীতে সারাদেশের এসএসসি ‘৮৯ ব্যাচের বন্ধুদের কাছে ছড়িয়ে পড়ে। অভাবনীয় সাড়া পায় দেশের সর্বপ্রথম রিয়েল লাইফ ব্যাচওয়ারি বন্ধুত্বের এই প্ল্যাটফর্ম।
89 Revived এর ৮ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১৯ এপ্রিল ২০২৪ সালে চিটাগং ক্লাব এর ব্যাংকুয়েট হলে আয়োজন করা হয় আড়ম্বরপূর্ণ বন্ধনের মিলনমেলা। এই আয়োজনে সংগঠনের বন্ধুদের সাথে তাদের পরিবার পরিজন এর সদস্যরাও মিলিত হয়েছে পারস্পরিক ভাব বিনিময়ের তাগিদে। অভিজ্ঞতা বিনিময়, হাসি-ঠাট্টা, গান, কবিতার রসসুধা পান করার অমোঘ পরিবেশে চির-বন্ধনের প্রতিশ্রুতিময় সম্ভাবনার ক্যানভাসে আঁকা হোক বন্ধুত্ব।
আমাদের এই আয়োজনে এগিয়ে আসা সকল বন্ধুকে, বন্ধুদের পরিবার পরিজন সহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। যারা বিভিন্নভাবে আমাদের প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি 89 Revived এর পক্ষ থেকে জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা। পরিশেষে, আমাদের জ্যোৎস্না ঢাকা বন্ধুত্বে বাঁচার স্বপ্নটুকু চিরসবুজ দেবদারুর মতো সমুচ্চ হউক এই প্রত্যাশা করছি।